আজ ১০ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৬শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

কবি আর বাসন্তী :: তোহাসিন তোহা

শুনেছি –
বসন্ত নাকি এসেছিল
নব রঙে, নব ক্ষণে!
বাসন্তী বিনি করেছিল নাকি-
টুকটুকে লাল শিমুল ফুলে!
শুনেছি
কোকিল ডেকেছিল
নব ছন্দে, নব সুরে !
বাউলকূল নাকি মেতেছিল –
মঞ্জীরধ্বনির সাথে গানের তালে।
তবে দেখেনি আমি-
দেখেনি বটবৃক্ষ মেলা
দেখেনি রমণীর হাতের রেশমি চুড়ি,
আলতা রাঙা পা।
কোথায় ছিলে তুমি?
কোকিলের ডাক শুনতে পাওনি ,?
দেখতে কি পাওনি নব প্রকৃতি ?
নাকি চুপটি করে বসে ছিলে
আনমনে জানালার পাশে।
বসন্ত এসেছে শুনেছি
কোকিলের গান শুনেছি
করেছি অনুভব
তবুও তুমি হীনা যেন শূন্য ছিল সব।

প্রেমময় কবি –
বাসন্তী ছিলো কোকিলের কুহুতানে,
কৃষ্ণচূড়া পলাশের লাল কাননে।
মঞ্জুরি তো সাক্ষী ছিলো,
গভীর রাতের তারায়,
বটবৃক্ষ তলে মেলা ছিলো, জোনাক পাহারায়।
বলি কবি
দেখোনি তুমি!
শিমুলের সব লাল রঙ নিয়ে এসেছিলাম, হ্যাঁ এসেছিলাম।

তবে বাসন্তী –
কেনো দেখিনি আমি!
কোকিলের কুহুতানে
একাকিত্বের বিষাদিনী সুর ছিল
কৃষ্ণচূড়া পলাশের বুকে
রক্তের গন্ধ ছিল
আর মঞ্জুরি ক্লান্ত!
ঘুমিয়েছিল গগন পানে চেয়ে,
তারাদের সাথে কথা বলেছিল
আনমনে জানালার পাশে বসে।
জানো বাসন্তী –
তোমাকে মেলায় খুঁজেছি,
শত বেঁনী খোপায় দেখিনি,
বট বৃক্ষের পাশেই তো ছিলাম!
কোথায় ছিলে তুমি!?
বাসন্তী?

কবি –
কৃষ্ণপক্ষের অন্ধকার তুমি চিনো?
জানো, ওই অন্ধাকেরও স্বপ্ন থাকে!?
তারার ফুল ছিলো খোপায়,
নজরুলের দেওয়া সেই উপহার।
হাতে ছিলো কয়েকটা নীলপদ্ম,
হ্যাঁ, সুনীলের নীরা ছিলো না।
বেণুবনে ছিলো না বনলতা,
আমিই ছিলাম,
তোমার বাসন্তী!
চিনোনি, বুঝোনি, অনুভবে ডাকোনি কাছে।
বাসন্তী –
আমি নজরুল কিংবা সুনীলের মত
এত প্রেমময় নয়,
নীরা, নীলপদ্ম,বনলতা
ওরা কে গো, বাসন্তী ?
আমি কেবল সব কিছুতে
বাসন্তী তোমাকেই খুঁজি।
কবি –
বাসন্তী আসবে,
তম আঁধারে, নিরবে চুপে চুপে,
অপেক্ষায় থেকো।
বাসন্তী –
আমি অপেক্ষায় আছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     একই ক্যাটাগরিতে আরো সংবাদ