আজ ১০ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৬শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

সাদৃশ্যহীন ক্যারিয়ারের অনন্য এক সাধক

মোঃ আবু সাঈদ ঃ

ঈদ যেমন চিরন্তন,মানব সভ্যতাও ঠীক তেমনি । যুগযুগ ধরে এ সুন্দর নিখিলে মানুষ আসছে  বিধাতার টানে, আবার পরজগতেও চলে যায় । মানুষ চলে যাওয়ার মূহুর্তে কিছু আবার ব্যক্তিবৈশিষ্ট্য রেখে যায় । আর এই ব্যক্তিবৈশিষ্ট্য তার গুনেই একজন অন্যজন হতে ভিন্ন ।

আমি দীর্ঘদিন যাবৎ ভাবছি মানুষের এ ভিন্নতর রূপটি স্পষ্ট সহকারে বের করে আনার জন্য । ভাবতে গিয়ে দেখি এই ব্যক্তিবৈশিষ্টের পরিচায়ক শুধু মানুষ নন, অনন্য এক সাধক । বিশ্ব করায়ত্ব এমন ব্যক্তিত্বকে সাহিত্যের মধ্যেও খুঁজে পাচ্ছি ।

বিশ্ববিজয়ী আলেকজান্ডার বিশ্বজয় করে যথারীতি এথেন্সে তার প্রধান কার্যালয় করে বসলেন । গা-টা ইজি চেয়ারে হেলান দিয়ে প্রধান সেনাপতিকে বললেন হে সেনাপতি, আমি বিশ্ববিজয়ী আলেকজান্ডার । আজ থেকে আমার উপরে আর কোন শক্তিধর ব্যক্তি নেই ।বিশেষ করে বিশ্ববিজয়ী অনেকটা দাম্ভীকতার সাথে এ কথাটা বলে ফেললেন । তখন সেনাপতি বললেন জাঁহাপনা আপনি ভূল কথা বলে ফেললেন । আপনার তলাটে এমনই এক শক্তিধর সাহিত্যিক রয়েছেন, যার কোন কিছু চাওয়া-পাওয়া এ বিশ্বে নেই । এই সাহিত্যিক যদিও আশ্রয়হীন, বস্ত্রহীন, চিকিতসাহীন, নিতান্তই সাধারন জীবন-যাপন করেন, তবুও ওনি নিজেকে সবচেয়ে বেশী ক্ষমতাধর ব্যক্তি বলে মনে করছেন ।

এ কথাটি শুনে বিশ্ববিজয়ী আলেকজান্ডার ইজি চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়িয়ে উচ্চস্বরে বলিলেন, হে সেনাপতি তুমি আমাকে ঐ সাহিত্যিকের কাছে নিয়ে চলো । এখন প্রচন্ড শীতের সকাল । তাৎক্ষনিক বিশ্ববিজয়ী সেনাপতিকে নিয়ে সাহিত্যিকের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন । এথেন্স শহরের একটি ময়লার ডাস্টবিনের উপরে চটের বস্তা বিছিয়ে এই শীতে সারারাত ময়লার বাস্পীয় গরমে কাটালেন ।সকাল ৭ টায় সূর্য্যের রশ্মিটা কেবল মাত্র সাহিত্যিকের শরীরটা গরম হতে লাগলো ।হঠাত বিশ্ববিজয়ী আলেকজান্ডার সেনাপতিকে নিয়ে সাহিত্যিকের পাশে গিয়ে দাঁড়ালেন ।

বিশ্ববিজয়ী সাহিত্যিক বললেন   ” হে ভৎস”  “তুমি উঠো” । “আমার কথা শোন”।  এসব ছেড়ে তুমি একটা প্রদেশের গভর্ণর হয়ে আরাম আয়েশের জীবন-যাপন করতে থাকো । সাহিত্যিক বলে উঠলেন, হে বিশ্ববিজয়ী আলেকজান্ডার তুমি বিশ্বকে নিয়ে ভাবতে থাকো আর আমাকে আমার যথাযথ স্থানে থাকতে দাও ।বিশ্ববিজয়ী তুমি আমাকে একটি প্রদেশের গভর্ণর বা একটা অঞ্চলের প্রধান বানিয়ে দিতে চাচ্ছ, অথচ এই শীতে আমি সূর্য্যের প্রথম প্রহরের রোদটা আমাকে যে সৃষ্টিকর্তার তাপদাহ প্রধান করছে এটা তুমি কখনো দিতে পারবে না ।অতএব বিশ্ববিজয়ী, আল্লাহর প্রদত্ত মোতাবেক আমাকে আমার গতিতে দিনাপিতাত করার সুযোগ করে দিয়ে তোমার কাজ তুমি কর ।

অথচ দেখা গিয়াছে,এই সাহিত্যিকের মাত্র একটি খাতা, একটি কলম, একটি ব্যাগ, পরনে শুধু একটি ময়লাযুক্ত প্যান্ট যার পানি খাওয়ার জন্য ছিল মাত্র একটি গ্লাস । ওই ডাস্টবিন থেকে উঠে অন্যত্র চলে যাওয়া মূহুর্তে দেখতে পেলো এক যুবক হাত দিয়ে একটি কলের টেপ থেকে হাতে চৌল দিয়ে পানি পান করছে । তাৎক্ষনিক সাহিত্যিক তার গ্লাসটি একটি শিশুকে দিয়া দিলেন । মনে মনে ভাবলেন, যদি ওই যুবক হাত ব্যবহার করে পানি পান পরতে পারে তবে আমি পারবোনা কেন ।

বর্তমান এক সাহিত্যিকের মধ্যেও যে এমন ব্যক্তি স্বকীয়তা রয়েছে, তার যথেষ্ট প্রমান আমি পেয়েছি, কিশোরগঞ্জের বিশিষ্ট্য লিমেরিকার, ভোরের আলো সাহিত্য আসরের কবি, ছড়াকার, লেখক, চিকিৎসক, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, জাতীয় পর্যায়ে পদকপ্রাপ্ত রেজাউল হাবীব রেজার মাঝে ।যিনি বেশ কটি সাহিত্য, সামাজিক ও সাংবাদিক সংগঠনের সংগঠক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন । ১টি খাতা, ১টি কলম, ১টি ব্যাগ, প্যান্ট ও সার্টের পকেটে থাকা কিছু কাগজের টুকরো তার নিত্য সহচর ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     একই ক্যাটাগরিতে আরো সংবাদ