আকুপ্রেসার বা রিফলেক্সোলজি চিকিৎসা-আকুপাংচার ও আধুনিক অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা সমাচার

রেজাউল হাবিব রেজাঃ পাঁচ হাজার বছর আগের এক চিকিৎসা পদ্ধতির নাম আকুপ্রেসার। তারও অনেক আগে মিশরের এক চিত্রে ঔষুধবিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতির প্রমাণ পাওয়া যায়। তবে তা কয় হাজার বছর আগে তা সুষ্পষ্ট নয়। হাতে ও পায়ের স্নায়ুবিন্দুতে চাপ দিয়ে তখন নানা রোগের সমাধান করা হতো। কালক্রমে মিশরের এ পদ্ধতি অন্যান্য দেশেও প্রচলিত হতে থাকে। ভারতীয় উপমহাদেশে তার প্রচলন হয় পাঁচহাজার বছর আগে। ঋষি-মুনি ও অলিআওলিয়াগণ রোগ সমস্যায় এ পদ্ধতি গ্রহণ করতো। তা পরে ছরিয়ে পড়ে চীনে। চীনদেশে ব্যাপক আকারে এ পদ্ধির চর্চা হয়। দেহের বিভিন্ন স্নায়ুবিন্দুতে চাপ দিয়ে আমরা বর্তমানে রোগ নিরাময় করে থাকি। কিন্তু চীনে একই বিন্দুতে সুঁই ফুটিয়ে নিরাময় করার পদ্ধতি চালু হয়। সুঁই ফুটিয়ে রোগ নিরাময় করার এমন পদ্ধতিকে বলা হয় আকুপাংচার। আকুপাংচারে সুঁই ফুটিয়ে এমন পদ্ধতি একটু জটিল। দক্ষ না হলে সুঁই প্রয়োগে ভুল হওয়া ও জটিলতা সৃষ্টির ভয় থাকে। কিন্তু আকুপ্রেসার পদ্ধতিতে এর কোনো ভয় নেই। নেই কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। দশ বছরের শিশুও তা আনায়সে চালিয়ে যেতে সক্ষম। আকুপাংচারে সুঁইবিদ্ধ করা ডায়াবেটিস রোগীদের বেলায়ও জটিলতা সৃষ্টির আশঙ্কা বিদ্যমান। কিন্তু আকুপ্রেসার প্রয়োগে গুটিকতক মূহুর্ত ছাড়া সবসময় সব রোগীদের বেলায় প্রযোজ্য। তাই বর্তমান সময়ে আকুপ্রেসারের চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যাপক জনপ্রিয় হচ্ছে। কারণ এতে কোনো প্রকার ভয়-ভীতি থাকেনা।  জটিলতার লেশমাত্র নেই।

আকুপ্রেসার পদ্ধতির এমন নির্ভয়ের চিকিৎসায় কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। সেটি হলো প্রচলন হওয়া আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি। বর্তমানে অ্যালোপ্যাথিক পদ্ধতি এমনভাবে শেকড় গেড়েছে যে বাছ-বিচার না করেই তা সেবন করছে। ডাক্তারের প্রয়োজন অনুভব না করেই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পন্ন এন্টিবায়োটিক ঔষুধ সেবনে সবাই অভ্যস্থ হয়ে পড়েছে। তাৎক্ষণিক সুফল পেতে ও দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসায় অধৈর্য হয়ে এমন ক্ষতিকর এন্টিবায়েটিক গ্রহণে রোগী ও রোগীরস্বজনরা কোনো প্রকার তোয়াক্কা করছেনা। ফলে ভুল ধারণায় অভ্যস্ত হওয়া সমাজ আকুপ্রেসার পদ্ধতির গ্রহণে দ্বিধা করছে। এই ভুল ভাবনায় অভ্যস্থ হওয়া তাৎক্ষণিক ফলাফল পাবার এই প্রক্রিয়াকে জিঁইয়ে রেখেছে পল্লীচিকিৎসকরাও। তারা না বুঝে এনাটমী,না বুঝে ফিজিওলজি না বুঝে দেহের সুক্ষ থেকে সুক্ষতর জটিল বিষয়াদি। তাই নির্ভেজাল ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন হওয়া সত্ত্বেও আকুপ্রেসার পদ্ধতি বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে। কাজেই এ পদ্ধতির সার্বজনীন করার জন্য নিউরোলজিষ্টসহ সকল বিশেষজ্ঞ ডাক্তারগণকে এগিয়ে আসা দরকার। (চলবে)

Leave a Reply

Your email address will not be published.