কিশোরগঞ্জ জেলার তিন উপজেলায় ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন

×
☰ রেĪজাউল হাবিব রেজা (নিউজক্যাসেল রিপোর্ট)স্বতস্ফূর্ত ও ব্যাপক ভোটার উপস্থিতির মধ্য দিয়ে গতকাল কিশোরগঞ্জ জেলার কিশোরগঞ্জ সদর, নিকলী ও কুলিয়ারচর এই তিন উপজেলার মোট ২৩টি ইউনিয়নে ইউপি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। উৎসবমুখর পরিবেশে সকাল ৮টায় ভোট শুরু হওয়ার পর থেকে বিকাল ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া জেলার ২৩টি ইউনিয়নের মধ্যে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন, নিকলী উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন এবং কুলিয়ারচর উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন রয়েছে। কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন হচ্ছে, রশিদাবাদ, লতিবাবাদ, মাইজখাপন, মহিনন্দ, যশোদল, বৌলাই, বিন্নাটি, মারিয়া, চৌদ্দশত, কর্শাকড়িয়াইল ও দানাপাটুলী। নিকলী উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন হচ্ছে, সিংপুর, দামপাড়া, কারপাশা, নিকলী, জারইতলা, গুরুই ও ছাতিরচর। কুলিয়ারচর উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন হচ্ছে, গোবরিয়াআব্দুল্লাপুর, উছমানপুর, ছয়সূতী, সালুয়া ও ফরিদপুর। তিনটি উপজেলার মোট ২২৪টি কেন্দ্রের মধ্যে কেবল কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার একটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। কেন্দ্রটি হচ্ছে লতিবাবাদ ইউনিয়নের কাটাবাড়িয়া এ আর খান উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র।

কেন্দ্রটিতে ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভোটগ্রহণ স্থগিত ঘোষণা করা হয়। জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ আশরাফুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সরজমিন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার অধিকাংশ ইউপি কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, সকাল ৮টায় ভোট শুরু হওয়ার পর থেকে দলে দলে ভোটাররা কেন্দ্রে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। কেন্দ্রে কেন্দ্রে পুরুষ ও নারী ভোটারদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। বিভিন্ন কেন্দ্রে শতবর্ষী বেশ কয়েকজন নারী-পুরুষকে স্বজনদের সঙ্গে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে দেখা গেছে। এ ছাড়া নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে প্রতিটি কেন্দ্রেই বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিয়োজিত থাকতে দেখা যায়। এ সময় সাধারণ ভোটাররা গণমাধ্যমের কাছে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ভোট দিতে পেরে সন্তোষ ও স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। এদিকে বেলা দেড়টার দিকে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মারিয়া ইউনিয়নের কাতিয়ারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করেন মো. ওমর হোসেন বকুল নামে এক ইউপি সদস্য প্রার্থী। এ সময় বেশ কয়েকজন গ্রাম পুলিশ ও আনসার সদস্যকে আহত করে প্রিজাইডিং অফিসারের কক্ষে হামলা চালানো হয়। প্রিজাইডিং অফিসার মো. সেলিম রেজা ভোট বন্ধ করে কক্ষে অবস্থান নেন। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ কেন্দ্রটিতে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ ও আনসার সদস্যরা মোট ১৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়েন। ৩০ মিনিট বন্ধ থাকার পর দুপুর ২টা ৫ মিনিটে কেন্দ্রটিতে পুনরায় ভোটগ্রহণ শুরু করা হয়। বেলা ২টার দিকে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মহিনন্দ ইউনিয়নের কলাপাড়া হাজী আব্দুল গফুর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে জোর করে ব্যালট পেপারে সিল মারাকে কেন্দ্র করে প্রায় ৩০ মিনিট ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকে। এ সময় প্রিজাইডিং অফিসার মো. জহিরুল ইসলাম ভূঞা বেশকিছু ব্যালট পেপার ছিঁড়ে ফেললে এ নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে নিকলী উপজেলার জারইতলা ইউনিয়নের রসুলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র দখলের চেষ্টার ঘটনায় পুলিশ ৬ রাউন্ড এবং কারপাশা ইউনিয়নের নানশ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র দখলের চেষ্টার ঘটনায় পুলিশ ৮ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.