দখলদারিত্বের এক নমুনা !!স্পট :হোসেনপুর !!

ভ্রাম্যমান  প্রতিনিধি ; এক ভ্রমণ পিপাসায় যাত্রা শুরু। দিকহীন যাত্রা! অবশেষে স্থির হলো দেখতে যাব হোসেেনপুর চর এলাকা কাশফুল দেখতে । কিশোরগঞ্জ থেকে অটো-রিকশাযোগে হোসেনপুর পোস্ট অফিস সংলগ্ন জায়গায় থামলাম। সেখান থেকে আমি একা চর এলাকায় যাব ভাবতে ভাবতে দেখলাম ক’জন অটোরিকশা নিলো চরজামাইল গ্রামের দিকে। আমি ওনাদেরকে জিজ্ঞেস করলাম এটা কোন দিকে? অটোর ড্রাইভার বললেন আপনি যাবেন? পেসেঞ্জার বললেন যাবেন কি না? পথ অজানা। তবু ওঠলাম ও চললাম অজানা গন্তব্যের দিকে। চরজামাইল গিয়ে অটো থামলো। এটি আড়াইবাড়িয়ার ইউনিয়নের বটে। বেশ কতক্ষণ হেঁটে চোখের নজরে পড়লো খালের মতো এক জায়গার। দেখলাম খালটির মাটি সরানো হয়েছে অল্প ক’দিন আগে।
অপরিচিত একজনকে জিজ্ঞেস করলাম এ জায়গায়টি ব্যক্তি মালিকানা নাকি সরকারি জায়গা? তিনি উত্তর দিলেন খালটি সরকারি জায়গা আর এ খালের পাশের জায়গা মালিকানা। আবারও জিজ্ঞেস করলাম এ খালটির মাটি কেটেছে সরকারি ব্যবস্থাপনায় নাকি কোনো ব্যক্তি? তিনি উত্তর দিলেন এক ব্যক্তি। তিনি ব্যক্তির নাম বললেন না। তিনি নিজের নামও বললেন না। এতে বুঝা গেল নিশ্চয়ই খালখননের যিনি কাজটি করেছেন তিনি খুব প্রভাবশালী। যার কারণে তিনি খালখননকারীর নামও বলছেননা। নিজের নামটি বলতেও অপারগতা প্রকাশ করছেন । পাশে থাকা অপরিচিত দু’জন ব্যক্তি বলাবলি করছেন দখলদার ব্যক্তিটি নাকি মুক্তিযোদ্ধা !! এটা শুনেছি তাদের কম শব্দের উচ্চারণে। ওরা স্থানীয় হয়েও স্পষ্টভাবে কিছু বলতে পারছেনা।
তাহলে আমি তো অপরিচিত একজন মানুষ। তাই আমি স্পষ্টভাবে জিজ্ঞেস করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছি। মনে মনে ভাবছি, গেলাম ভ্রমণে,এতেই সীমাবদ্ধ থাকা সমীচীন। তবে মনের মাঝে দোলা দিলো যে, যারা নিজের সর্বস্ব ত্যাগ করে পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে ১৯৭১সনে লড়াই-সংগ্রাম করেছেন তার ৫০বছর পরে এসে তাদের ত্যাগের বিষয়টি ভুলে গেছেন? এখন কী তারা জোর করে ভোগের খেলায় মত্ত রয়েছেে? তাদের এমন দখলদারিত্ব কী তাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর আঘাত নয়?এমন কিছু ভাবতে ভাবতে আবার নতুন ভাবনা দেখা গেল। সেটি হলঃ খালের উভয় পারের জায়গাতো কোনো না কোনো ব্যক্তির। সরকারি জায়গা দখলের সুবাদে ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গাতেও মাটি খনন বা জায়গা দখলের পায়তার স্পষ্ট। আমার মনে মনে ভাবছি, খালের পাড়ে থাকা জায়গার মালিকগণও দখলকারীর ভয়ে কোনো প্রতিবাদ করতে পারছেনা। তাই আমার এবার ইচ্ছে হলো যে এজায়গার মালিক খুৃঁজে বের করে তথ্য জানার চেষ্টা করি। পরক্ষণই মনে জাগলো যে, “নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর দরকার কী।”
কারণ, আমি জানতাম এ এলাকার একজন শক্তিশালী সংবাদকর্মীর বাড়ি। চ্যানেল আইয়ে ভালো একটি পদে আছেন। তার এলাকায় প্রকাশ্যে এমন দখলদারিত্ব চলছে। তারা সারা বাংলাদেশে দখলদারিত্বের ব্যাপারে রিপোর্ট করে বেড়ায়। অথচ এ সাংবাদিকের নিজ এলাকায় এমন দখলদারিত্বের কোনো রিপোর্ট নেই। এসব ভেবে ভেবে এটি নিয়ে আর বাড়াবাড়ি করিনি সেখানে। নিজের ওপর নেমে আসতে পারে কোনো বিপদ। যেখানে ঢাকায় বসবাসরত একজন প্রভাশালী সাংবাদিকের বাড়ি।
সেখানে বিষয়টি তারা না দেখলে আমি দেখবো কীভাবে? এ প্রশ্নটি আমার মাথায় যখন আসলো তখন আমি সটকে পড়ার চিন্তা করলাম এবং কয়েকটি ছবি তুলে বিদায় নিলাম। সে জায়গা ঘুরতে গিয়ে সন্ধ্যা প্রায় হয়ে যাচ্ছে বিধায় হোসেনপুরের চর এলাকার কাঁশফুল আর দেখা হলো না। ভ্রমনের অতৃপ্ততায় ফিরে এলাম কিশোরগঞ্জ। কিন্তু মনে মনে বিবেকের দায়বদ্ধতায় যেন দগ্ধ হচ্ছিলাম। দখকদারিত্বের এমন ছবিগুলো গ্যালারিতে আটকে রেখে সত্য বিষয়টিকে কেন চেপে রাখলাম? এমন প্রশ্নের অপনোদন করতেই বিবেকের দায় থেকে মুক্তি পেতেই আজ আটকে রাখা ছবিগুলো পোস্ট করলাম।
এতে যদি ভুমি মন্ত্রণালয় বা সরকারি জমি বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তার নজরে আসে, তাহলে হয়তো দেশ ও জাতির কোনো উপকার হতে পারে। অথবা হোসেনপুরের কোনো সংবাদকর্মীর বা প্রতিবাদী মানুষের নজরে এলেও তার তথ্য নিয়ে দেশ ও জাতির কোনো উপকার করতে পারে। এমন প্রত্যাশায় এ পোস্টটি ওপেন থ্রো করলাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published.