আজ ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১লা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

করিমগঞ্জ আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক অবস্থা ভাল নয়

ডেস্ক রিপোর্টঃ এক সময় করিমগঞ্জ আওয়ামীলীগের হাঁকডাক ছিল দেশ জুড়ে। ড. মিজানুল হক নাড়া দিয়েছিলেন  আওয়ামী অঙ্গনে। ড. এম ওসমান ফারুক, মুজিবুল হক চুন্নুসহ যত নেতার কথাই বলিনা কেন ড. মিজানুল হকের মতো করিমগঞ্জের মাটি কেউ কাঁপাতে পারেনি। আপনাদের অনেকের মনে থাকার কথা যে, তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের  মোকাবেলায় কাফনের কাপড় মাথায় ধারণ করে  ড. মিজানুল হক নেমেছিলেন অনৈতিক সরকারের বিরুদ্ধে। এ সময় সরকারের পুলিশ বাহিনী লেলিয়ে দিয়েছিল  ড. মিজানুল হকসহ তার আনুগত্যশীল কর্মী বাহিনীর ওপর। গুলিবিদ্ধ হয়েছিল নবী হোসেন নামের  এক নিবেদিত প্রাণ কর্মী। ঢলে পড়েছিল সে মৃত্যুর কোলে। আর আওয়ামী কর্মীরা ছিল ঐক্যবদ্ধ।  জানবাজ কর্মীরা ফেটে পড়েছিল বিক্ষোভে। ড. মিজানুল হকের নেতৃত্বে উত্তাল তরঙ্গে কাঁপছিল করিমগঞ্জের মাটি।  কিন্তু এখন করিমগঞ্জ আওয়ামীলীগের সেই অবস্থা আর নেই।  আওলাদ হোসেন নামের এক অযোগ্য নেতৃত্ব এসে দখল করেছে করিমগঞ্জের মাটি।  করিমগঞ্জের আওয়ামীলীগকে  বিভক্ত করেছে তার অযোগ্য নেতৃত্বের কারিশমায়।  করিমগঞ্জের প্রতিটি  ইউনিয়ন, ওয়ার্ড এমনকী  প্রতিটি পাড়া  মহল্লায়  বেজে ওঠছে বিভক্তির  সুর।  দলে  তৃণমূল থেকে উপজেলার কোথাও কোথাও অনুপ্রবেশকারীরা এসেছে নেতৃত্বে।  তার বিপরীতে  প্রকৃত  আওয়ামী পরিবারের ত্যাগী কর্মীদেরকে স্থান দিয়েছে তার পায়ের তলায়।  ফলে  করিমগঞ্জের  আওয়ামীলীগ  দুইভাগ-তিনভাগ কোথাওবা চারভাগে বিভক্ত।  যার আওলাদের আমলকে আওয়ামীলীগ বিভক্তিকরণের আমল বলে পরিচিতি লাভ করেছে। যেখানে বিভক্তি নেই সেখানে আওলাদের নেতৃত্ব অচল। কোথাও কোথাও  রাজাকার বা বিএনপির  বা জাতীয় পর্টির তৃণমূল নেতার সন্তানদেরকে  ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের  আরামদায়ক কেদারায় স্থান দিয়েছে।  যারা নিজ এলাকায় গণবিচ্ছিন্ন  এমন তৃণমূল ব্যক্তিকে দিয়ে  ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করার স্বপ্ন দেখছে আওলাদ।  একটি ইউনিয়নের উদাহরণ দিলেই  তা স্পষ্ট হবে  ইনশাল্লাহ।  যেমন কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের  শাহজাহান কবীরকেও একবার আওলাদ স্থান দেয় তার ছায়াতলে। সে একজন শান্তি কমিটির  এক প্রয়াত নেতার পুত্র বটে। সেই শাহজাহান আবার  বেলতলীতে আওয়ামীগের  নির্বাচনী  অফিসকে  রুপান্তরিত করছিল জাতীয় পর্টির অফিসে।  সেই শাহজাহান নেতা বানানোর পর এখন না-কী আওলাদের বনিবনা বাতিল।  এখন খুঁজে বের করেছে আলী আসগর খোকন নামের  এক ব্যক্তিকে।  তার পিতা  আকবর এলাকায় একজন ভদ্র ব্যক্তি। জাতীয় পার্টির একজন তৃণমূল নেতা।  তারই প্রজন্ম  এখন কাদিরজঙ্গল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের  সভাপতি। আসলে  জাতীয় পার্টির  প্রজন্মের লোকজন আওলাদের কাছে খুব বিশ্বাসী।  কারণ আওলাদ তো মনে প্রাণে আওয়ামীলীগের লোক নন।  তাই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোক কিংবা মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মদেরকে পছন্দ করেন না। প্রকৃত আওয়ামীলীগারদেরকে তিনি ভয় পান। যার কারণে তিনি  কাদিরজঙ্গল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক হাবিবুর রহমান ফুলুমিয়ার সুযোগ্য উত্তরসুরী  আহসান হাবীবকে  ইউনিয়নের নেতৃত্বের বাইরে রাখেন।  কারণ আহসান হাবীব তার পিতার আদর্শ লালন করেন।  এটা  আওলাদ হোসেনের এক ভয়ের কারণ।  তাছাড়া  জঙ্গলবাড়ির জামিল আনসারী একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান।  তারও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে স্থান নেই।  স্থান হয়েছে ভিন্ন দল ও মতের  আদর্শ থেকে আসা  ভোগবাদীদের।  শফিকুল নামের কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের আরেক নেতাকেও আওলাদ খুব পছন্দ করে। কারণ করিমগঞ্জের  আলোচিত রাজাকার বংশে তার আত্মীয়তা রয়েছে। খবর নিলেই এর সত্যতা খুঁজে পাবেন। অথচ সেই আত্মীয়র একজন  খুনি রাজাকার প্রমাণিত হওয়ায় ফাঁসির  দন্ডে দন্ডিত করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।  এই হলো আওলাদের অনুপ্রবেশকারী ও রাজাকার প্রীতির  কাহিনী। একটি ইউনিয়নের বাস্তব নমুনা যদি এই হয়ে থাকে তাহলে বাকী ইউনিয়নগুলোর অবস্থা কী হবে  একটু বিবেচনা করুন।  আওলাদের আরেকটি  নেতৃত্বের গুণ হলো আজকে যাকে নেতা বানায় কালকে তাকে ছুঁড়ে ফেলতেও দ্বিধা করেনা। এর পেছনের রহস্য না-কী  অর্থ লেন দেনের কাহিনী বিদ্যমান।  লেখায় আরেকটি কথা বলা হয়েছিল যে, আওলাদ গণবিচৃছিন্ন পরিবারের লোকদেরকে  সাংঘাতিকভাবে ভালবাসেন।  আওলাদের ঘেষিত  কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের সভাপতির পরিবারও সেই গণবিচ্ছিন্ন পরিবারের লোক। প্রমাণ নিতে চাইলে সেই ইউনিয়নের হাত্রাপাড়া বাজারে যাবেন।  বাজারের লোকদেরকে প্রশ্ন করবেন যে হাত্রাপাড়া বাজার গড়ায় কাদের অবদান ছিল? আর এ বাজারের কারা বিরোধিতা করছিল। যারা বিরোধিতা করছিল তাদের মধ্যে   আলী  আসগর খোকনের বাবা সম্পৃক্ত ছিল কি-না?  বর্তমানে এই হাত্রাপাড় বাজারে তাদের নেতৃত্ব আছে কি-না?  তাহলেই এ প্রতিবেদন লেখার সত্যতা খুঁজে পাবেন।  এই হলো আওলাদ হেসেনের বেছে নেয়া পছন্দের  গণবিচ্ছিন্ন  নেতাদের  ছোট্ট কাহিনী।  এসব প্রতিবেদন প্রকাশ হবে  প্যাকেজ অনুযায়ী  ক্রমাগতভাবে।  আজকের প্রথম প্যাকেজ এ পর্যন্তই।  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     একই ক্যাটাগরিতে আরো সংবাদ