ইনসাফ করে সমালোচনা করুন৷ জুলুম পরিহার করুন৷

রিজাল শাস্ত্রের উল্লেখযোগ্য পণ্ডিত, ইতিহাসবেত্তা ও জীবনিকার ইমাম যাহাবি রহ.এর দুটি গুণ উলামাদের মাঝে ব্যপকভাবে প্রসিদ্ধি পেয়েছে।
এক. قوة الحفظ বা ধীশক্তি।
দুই. العدالة فى النقد বা সমালোচনায় নিষ্ঠা ও ভারসাম্যতা।
হাবিবুর রহমান আ’জমী রহ. الألبانى شذوذه و أخطاؤه এর মাঝে লেখেন, ইবনে হাজার রহ. ইমাম আবু হানিফা কে ثقات এর মাঝে অন্তর্ভুক্ত রাখতে সাহস করতে পারেননি। শুধু فقيه مشهور বলে ক্ষান্ত করেছেন। পক্ষান্তরে যাহাবি রহ. নিষ্ঠার পরিচয় দিয়ে তাকে رواةالحفاظ এর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
তার আদালতের সাক্ষ্য দিতে গিয়ে আব্দুল মালিক হাফি দরসে বলেছিলেন,
كان الإمام الذهبي اعدل فى حق تراجم الحنفية من الحافظ ابن حجر العسقلانى
“ ইমাম যাহাবি রহ. ইবনে হাজারের চেয়ে অধিকতর নিষ্ঠাবান।”
তার খুব নিকটবর্তী ও ঘনিষ্ঠ শিক্ষক ছিলেন শায়খুল ইসলাম ইবনে তায়মিয়্যাহ রহ.। শাগরেদ তার শিক্ষকের ব্যাপারে তার অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে বলেছেন, “ইলমের কোন বন্ধু যদি আরেকজন আলেমের ব্যাপারে সমালোচনা করতে গিয়ে প্রান্তিকতামুক্ত না হতে পারে, ব্যক্তিবিদ্বেষ ও আত্মখায়েশের শিকার হয়, তাহলে তার কথার ধর্তব্য নেই।”
সেজন্য বলছি, ফয়জুল করীম হাফি. একজন আহলে ইলম। তার ব্যাপারে সমালোচনায় ইনসাফ করুন। মনে রাখবেন, কারো ব্যাপারে ন্যায়সঙ্গত সমালোচনা আপনার হক। আর সমালোচনায় ইনসাফ না করতে পারা জুলুম।
ইমাম বুখারী রহ. এর এই স্বপ্নের ঘটনা মুটামুটি সমস্ত ব্যাখ্যাকারগণই ‘রচনার প্রেক্ষাপট’ অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন। এটি প্রমাণিত, এই ব্যাপারে কোন সংশয় নেই। ইমাম বুখারির হাতপাখা দিয়ে মাছি বিতাড়নের মাধ্যমে সহিহ কে মওজু থেকে পৃথক করণ কে তাশবিহ দিয়ে হাতপাখা প্রতীককে অন্যান্য কুফুরি মতবাদ থেকে পার্থক্যকারী বললে তাহরিফ হয় কিভাবে?? এখানে এমন কি বললেন, যার ফলে তাকে মদপ্য বলে গালি দেওয়া হবে?
মুফতি শফি রহ. ওয়াহদাতুল উম্মাহ নামক গ্রন্থে লেখেন, “غير منکر کی تنکیر بھی ایک منکر ہے”
‘আত-তাবাররুক’ বলে কিছু একটা আছে, সেটা হয়ত তাদের ধারণায় নেই। ইবনে হাজার রহ. ফাতহুল বারীতে بول الصبيان হাদিসের ফাওয়ায়েদ উল্লেখ করতে গিয়ে লেখেন والتبرك باهل الفضل
বরকতের দিক লক্ষ্য করেই সাহাবিদের নামে অসংখ্য মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। মুসলিমরা যে নামের শুরুতে মুহাম্মদ বলে এটাতো কোন হাদিসে নেই। এটাও বরকতের জন্য।
যারা أسلوب النقد পড়েছেন, তারা জানেন, কোন বিষয়ে নকদ করা হবে, সেখানে উল্লেখ আছে, ভুল আকিদা বিশ্বাস ও শায কোন বিষয়ের তানকিদ হবে, অন্যথায় না। এখানে এমন কি বলা হয়েছে, যার জন্য এভাবে উঠেপড়ে তানকিদ করতে হবে?
পরিশেষে আবারো বলছি, সমালোচনায় ইনসাফ করুন। তাকি উসমানী হাফি. একটি চমৎকার ঘটনা উল্লেখ করেছেন।
“শায়খুল হিন্দ রহ. এক বেরলভি’র সাথে তর্ক করছিলেন। বেরলভি লোকটি দেওবন্দি আলেমদেরকে বারবার মিথ্যুক বলে গালি দিচ্ছিলো। শায়খুল হিন্দের সফরসঙ্গী শাগরেদ বলে উঠলেন, ঠিক আছে আমরা মিথ্যুক। আমরা বলছি, আপনি পাক্কা মুসলমান। তার মানে আমরা মিথ্যা বলছি। আপনি কাফের। শায়খুল বিষয়টি বুঝতে পেরে শাগরেদকে ধমক দিয়ে বললেন, তুমি কাফের বলছো কেন? তারা তো কাফের না।”
কারো ব্যাপারে সমালোচনা করতে গিয়ে ইনসাফ করুন। জুলুম পরিহার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.